তৌফিকুল ইসলাম পল্লব , বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় বড়াল নদীতে অবৈধভাবে মাটি খননের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নদীর তীর ও তলদেশ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবৈধ এই খননের কারণে বড়াল নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে এবং কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি বহুদিন ধরে চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় জামনগর ইউনিয়ন শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রায়হান রেজা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রকাশ্যে নদী থেকে মাটি কাটছে। আজ (শনিবার) ঘটনাস্থলে গিয়ে বাজিতপুর এলাকার লায়া নামের একজনকে গাড়িসহ পাই। তিনি শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটাচ্ছিলেন। এমন অবৈধ কর্মকান্ড দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত।”
অভিযুক্ত লায়া, যিনি বাজিতপুর এলাকার কাইমুদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে, অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “আমি ছয় গাড়ি মাটি কেটেছি। বাঁশবাড়ীয়ার শিমুলের নির্দেশে কাজটি করেছি। তবে এটি যে ঠিক হয়নি, তা আমি স্বীকার করছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিমুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি একাধিকবার ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, “নদী থেকে কোনোভাবেই মাটি কাটার অনুমতি নেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, তবে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশবিদদের মতে, অবৈধভাবে নদী খননের ফলে নদীর নাব্যতা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বড়াল নদীকে অবৈধ দখল ও খননের হাত থেকে রক্ষা করবে।
