নাটোরে স্বামী-স্ত্রীর জিন্দা কবর রটনা! হাজারো জনতার ভীর!

গোলাম মাওলা সাগর, নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের লালপুর উপজেলার দূড়দূড়িয়া ইউনিয়নের জয় কৃষ্ণপুর গ্রামে লালন ভক্ত স্বামী-স্ত্রীর জিন্দা কবর রটনায় হাজারো ভক্ত আর উৎসুক জনতার সমাগম ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌছে রটনার অবসান ঘটায়।

ওই লালন ভক্ত ব্যাক্তির নাম খালেক ডাকাত ওরফে খালেক ফকির। তিনি ওই এলাকায় সিদ্ধি খালেক বাবা নামেও পরিচিত। তিনি একই এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে।

তথ্যমতে,জয় কৃষ্ণপুর গ্রামে আগে থেকেই পীরের মাজার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই মাজারের পাশেই খালেক ফকিরের বাড়ি।

এলাকাবাসীর দাবী,অনেক আগে খালেক এলাকায় চুরী-ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল এমন কথা প্রচলিত থাকায় তাকে ডাকাত খালেক নামেই লোকে চিনতো। এরপর সে গাঁজা ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত হয়। সম্প্রতি ওই মাজারের খাদেম মারা যাওয়ার পর থেকে সে মাজারের দেখাশোনা করে। প্রায়ই অনুসারীদের নিয়ে সিদ্ধি আসর নামে গাঁজা সেবন করে। এর পাশাপাশি সে নিজেকে আধ্যাতিক সাধক হিসাবেও পরিচয়,দেয়।  কয়েকদিন আগে সে ঘোষণা করে,আধ্যাতিক সাধনা বলে সে তার প্রথম স্ত্রীর সাথে আড়াই দিন কবরে থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নারী ও পুরুষের দাবী,ওই ঘোষণার অংশ হিসাবে বুধবার থেকেই তার অনুসারীরা মাজারে আসতে থাকে। তাদেরকে তিনি এক মন দুধ দিয়ে রান্না করা পায়েস ছাড়াও মাছ-ভাত খাওয়ায়।এরপর দেড় মন দুধ দিয়ে গোসল করে কাফনের কাপড় পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী-স্ত্রী নতুন তৈরী করা একটি কবরে আড়াই দিন থাকতে প্রবেশ করার কথা। কিন্তু খবরটা প্রকাশ হয়ে গেলে এলাকার উৎসুক জনতা সেখানে ভীর করে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌছলে তাদের প্ল্যান নষ্ট হয়ে যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে লালপুর থানার

ওসি শফিকুল ইসলাম জানান,ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও খনন করা কোন কবর তারা পাননি। স্থানীয় জনতা আর ওই ফকিরের সাথে কথা বলে তারা থানায় ফেরেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,ওই ফকির মূলত লালন ভক্ত। অন্য লালন অনুসারীদের মতই তার কাজ। বিষয়টির ঘিরে যাতে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে তারা তৎপর রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *