তৌফিকুল ইসলাম পল্লব, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এক রহস্যজনক চুরির ঘটনা। উপজেলার ১নং পাঁকা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে কোনো ধরনের ভাঙচুর বা তালা নষ্টের চিহ্ন ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার চুরি হয়ে গেছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিয়মিত কার্যক্রম শেষে ভূমি অফিসের সকল কক্ষ তালাবদ্ধ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস ত্যাগ করেন। পরবর্তী দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে অফিস বন্ধ ছিল। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলাম অফিস খুলে প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক দেখতে পান। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি লক্ষ্য করেন, একটি কম্পিউটার তার নির্ধারিত স্থানে নেই। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোছা. কাঞ্চন আরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “অফিসের দরজা-জানালা ও তালা সবই অক্ষত রয়েছে। কোথাও জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত নেই। তারপরও কম্পিউটারটি নিখোঁজ—বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। উপজেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটছে, যা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ এসব ঘটনার পরও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
বাগাতিপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, একাধিকবার সরকারি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের শনাক্ত করা না গেলে তা দুঃখজনক। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এমন দুঃসাহসিক চুরি আরও বেড়ে যেতে পারে এবং সরকারি দপ্তরের প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
