স্ত্রী-সন্তান রেখে না ফেরার দেশে রতন
তৌফিকুর রহমান পল্লব, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রতন আলী মিস্টার (৩০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার নুরপুর চকপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রতন উপজেলার কাজিরচক মালঞ্চি গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রতন আলী একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তমালতলা-জামনগর সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে চলাচল করছিলেন। নুরপুর চকপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল আজিজ জানান, সংঘর্ষের শব্দ আশপাশের লোকজনকে আতঙ্কিত করে তোলে। দুর্ঘটনার আঘাত ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। ধাক্কার পর রতন সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুদীপ্ত সাহা তাকে চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রতনের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জানা গেছে, তিনি স্ত্রী ও চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের এমন অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
গ্রামবাসীরা জানান, রতন ছিলেন পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। প্রতিদিনের শ্রমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো গ্রামই একজন কর্মঠ যুবককে হারালো।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, তমালতলা-জামনগর সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা যায়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তারা সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
রতনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসতর্কতা বা অতিরিক্ত গতি কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ, ধ্বংস করে দিতে পারে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। তাই সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।
