কুমকুমের সাফল্যে কোচিং ছাড়াই জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাইভেট-কোচিং আর ব্যাচভিত্তিক পড়াশোনার দৌড়ে যখন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ছুটছে এক কোচিং থেকে আরেক কোচিংয়ে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে নাটোরের উম্মে হাবিবা কুমকুম। কোনো প্রাইভেট শিক্ষক কিংবা কোচিংয়ের সহায়তা ছাড়াই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে সে এখন নিজের বিদ্যালয় ও এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা কুমকুম দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের নওপাড়া ওসমানগণি বালিকা বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।

কুমকুমের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলা এবং বাড়িতে নিজের পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতা। প্রাইভেট কিংবা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যালয়ের পাঠকেই গুরুত্ব দিয়েছে সে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সামিরা ইয়াসমিন বলেন, কুমকুম অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতির হার ছিল সন্তোষজনক; বলা যায়, অনুপস্থিতির রেকর্ড নেই বললেই চলে। শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে নিয়মিত পড়াশোনা করেছে সে। মানবিক বিভাগ থেকে বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে কুমকুমের জিপিএ-৫ অর্জনে তারা গর্বিত।

কুমকুমের মা মাসৌরা খাতুন কাকলী দিঘাপতিয়া উত্তরা কেজির সহকারী প্রধান শিক্ষক। মেয়ের পড়াশোনার ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে কুমকুম কখনো কোনো প্রাইভেট বা কোচিংয়ে যায়নি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে। মেয়ের এই সাফল্যে পরিবারের সবাই আনন্দিত।

কুমকুমের সাফল্যের গল্পটি শুধু একটি জিপিএ-৫ পাওয়ার গল্প নয়। এটি আত্মনির্ভরশীলভাবে পড়াশোনা করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনেরও একটি উদাহরণ। যেখানে অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফলের আশায় কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ে, সেখানে কুমকুম দেখিয়েছে, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শিক্ষকদের পরামর্শ, নিজের প্রতি আস্থা এবং অধ্যবসায় থাকলে বাড়তি কোচিং ছাড়াও ভালো ফল করা সম্ভব।

নিজের সাফল্যের জন্য প্রথমেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কুমকুম। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বাবা-মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সে।

কুমকুমের অর্জনে শুধু তার পরিবারই নয়, গর্বিত তার বিদ্যালয়ও। তার এই সাফল্য সহপাঠীদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি অভিভাবকদের জন্যও একটি বার্তা, ভালো ফলাফলের জন্য শুধু কোচিং নয়, শিক্ষার্থীর নিয়মিত পড়াশোনা, বিদ্যালয়ের প্রতি মনোযোগ এবং পরিবারের উৎসাহই হয়ে উঠতে পারে সাফল্যের বড় ভিত্তি।

কুমকুমের জিপিএ-৫ তাই কেবল একটি ফলাফল নয়; এটি প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি, নিয়মিত অধ্যয়ন ও শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে কোচিং ছাড়াও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *