তৌফিকুল ইসলাম পল্লব, বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফলাফল বাতিল করে পুনরায় যোগ্য প্রার্থীদের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
১২ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ফ্যামিলি কার্ডের স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের জন্য গত ৩ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে বেশ কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্বজনপ্রীতি, একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও ফলাফলে নাম আসা, একজন সাবেক আমলার সুপারিশে প্রার্থী মনোনয়ন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে প্রার্থী নির্বাচনের অভিযোগ।
অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অনিয়মের কারণে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অভিযোগগুলো তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকাশিত ফলাফল বাতিল এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে পুনরায় সুষ্ঠু ফলাফল প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেলের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মীর একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মালঞ্চি বাজার থেকে শুরু হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগপন্থী ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অপসারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে নিয়োগে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাষীশ বসাক দাবি করেন, আমাকে লাঞ্চিত করার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। তারা একটি স্মারকলীপি দিয়েছেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
