তৌফিকুল ইসলাম পল্লব, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দোকান থেকে টাকা চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর শারীরিক প্রতিবন্ধী এক দোকানিকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানি মো. মাহাবুর রহমান (৪৪) বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের রহিমনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাহাবুর রহমান শারীরিক প্রতিবন্ধী। রহিমনপুর গ্রামের নদীর ধারে বসতবাড়ির পাশে তাঁর একটি মুদি ও চায়ের দোকান রয়েছে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে দোকানটি পরিচালনা করেন।
অভিযোগে মাহাবুর রহমান উল্লেখ করেন, গত ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ১৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাঁর দোকান থেকে টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি ১৪ আগস্ট বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
মাহাবুর রহমানের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করার সময় অভিযুক্ত লুট (৪৫), ফুরকি বেগম (৪০) ও মাসুদুল ইসলাম (২০) তাঁর দোকানে অনধিকার প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাঁর মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে ও জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাহাবুর রহমানকে রক্ষা করতে তাঁর শাশুড়ি মোছা. তাহমিন বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মাথায় জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মাহাবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দোকান ও চার্জার ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। দোকান থেকে টাকা চুরির ঘটনায় অভিযোগ দেওয়ার পর মারধরের ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন, “আমি মাহাবুরের কাছ থেকে ঘটনা শুনেছি।”
ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “আমি চুরির ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো ঘটনাস্থলে যাইনি।”
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
