রায়হান আলী, নওগাঁ:
নওগাঁর মান্দা উপজেলা-এর একটি দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার চকহরিনারায়ন দাখিল মাদ্রাসা-এর সুপার আব্দুল মান্নান এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি স্থানীয় নজরুল ইসলামের ছেলে মো. জাকির হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসাটিতে সম্প্রতি ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সুপার আব্দুল মান্নান তার মেয়ে উম্মে আখি আক্তারকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী।
এছাড়া, এর আগেও তিনি স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, পিয়ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রত্যাশী কয়েকজনের দাবি, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকেও নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হলেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যথাযথভাবে প্রচার না করে সীমিত পরিসরে গোপনে প্রকাশ করা হয়েছে, ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ পাননি। এমনকি পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও, এক কর্মচারী দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তার নামে বেতন উত্তোলনের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। তারা দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের জমিতে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সুপারের কারণে প্রতিষ্ঠানটির কোনো উন্নয়ন হয়নি। অবকাঠামোগত অবস্থাও খুবই নাজুক।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মাত্র প্রকাশ করা হয়েছে। আমার মেয়েও একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছে। নিয়োগের আগেই আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেউ একক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখতার জাহান সাথী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
