বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

তৌফিকুল ইসলাম পল্লব, বাগাতিপাড়া (নাটোর):
জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান – টেকসই উদ্যোগে করি বেগবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘স্বাস্থ্যগাঁথা’ হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডা. মাহবুবা জান্নাত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরএমও ডা. রিতা হালদার, নার্সিং সুপারভাইজার হাবিবা খাতুন, নার্সিং ইনচার্জ সুফিয়া খাতুন, ইপিআই ইনচার্জ কবিতা খানম, মিডওয়াইফ আকলিমা খাতুন, স্যাকমো ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ, হেলথ ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা, এমটি (ইপিআই) দানিউল ইসলাম, ইপিক বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মায়ের দুধ খাওয়ানো হলে শিশুমৃত্যুর হার প্রায় ৩১ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ (এক ফোঁটা পানিও নয়) খাওয়ালে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি আরও ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

বক্তারা আরও বলেন, কৌটা বা গুঁড়ো দুধ খাওয়ানোর ফলে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি শিশুর বুদ্ধিবিকাশে বাধা, শৈশবকালীন ক্যানসার, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ছয় মাস পর্যন্ত একমাত্র মাতৃদুগ্ধ এবং এরপর দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত উপযুক্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনায় সঠিকভাবে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কৌশল, মাতৃদুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এ সময় বক্তারা আরও জানান, মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে কৌটা বা প্যাকেটজাত শিশুখাদ্যের প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপন ও প্রচার ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত। আইনে পণ্যের মোড়কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বিধান রয়েছে যে, “শিশুর জন্য মায়ের দুধের সমতুল্য বা শ্রেষ্ঠতর কোনো খাদ্য নেই” এবং “এই খাদ্য সম্পূর্ণ রোগজীবাণুমুক্ত নয়, এটি খেলে শিশুর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।” বিকল্প শিশুখাদ্য বিপণন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনগত নির্দেশনাও সভায় তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে মাতৃদুগ্ধদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি পরিবারে এ বিষয়ে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *