সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ
তৌফিকুল ইসলাম পল্লব, বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা:
নাটোরের বাগাতিপাড়ার বিভিন্ন বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার অকটেন ১৭০ টাকা এবং পেট্রোল ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
ক্রেতাদের দাবি, ব্যবসায়ীরা আগের দামে কেনা মজুদকৃত জ্বালানি তেলও নতুন নির্ধারিত দামে বিক্রি করছেন। এতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
৩ নম্বর বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, আজ সকালে মালঞ্চি বাজার থেকে পেট্রোল কিনেছি। প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম রাখা হয়েছে ১৬৫ টাকা। অথচ তেলটি আগের দামে কেনা হয়ে থাকলে নতুন দামে বিক্রি করার যৌক্তিকতা কী?
একই অভিযোগ করেন জিগোরী গ্রামের সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি আগের দামে কেনা তেল বিক্রি করে থাকেন, তাহলে নতুন নির্ধারিত দাম নেওয়া কতটা আইনসম্মত, সেটি প্রশাসনের দেখা উচিত।
অপর এক ক্রেতা শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দয়ারামপুর বাজারে অকটেন কিনতে গিয়ে প্রতি লিটারে ১৭০ টাকা দিতে হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম নিচ্ছেন। কিন্তু আগের দামে কেনা তেল নতুন দামে বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা কতটা যৌক্তিক, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তমালতলা বাজারের ভাইভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শান্ত বলেন, আমি নতুন ধার্য করা দামেই পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছি। কারণ, যখন তেলের দাম কমে যায়, তখন তো আমাদেরও কম দামে বিক্রি করতে হয়। তাই বর্তমানে নতুন নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করা আইনসম্মত।
তবে আগের দামে কেনা জ্বালানি তেল নতুন দামে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা কী—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাঁদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যেন অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
এদিকে, বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কাছে
কয়েকজন ক্রেতা। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুল ইসলাম বলেন, বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
