নাটোর প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। একটি দেশকে পিছিয়ে দিতে কিংবা ধ্বংস করতে হলে প্রথমেই সেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে সেই কাজটিই করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করুন) বেলা ১১টার দিকে নাটোর শহরের পটুয়াপাড়ার ঝাউতলা মরিয়ম স্কুলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, “ওই সরকারের পেছনে যারা ছিল, তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে শেষ করে দিতে। কোনো দেশকে যদি পিছনে ফেলতে হয়, ধ্বংস করে দিতে হয়, নিশ্চিহ্ন করতে হয়, তাহলে সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হয়। আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে সেটাই করছিল।”
পরীক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সময় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা না লিখে সাদা কাগজ জমা দিয়ে চলে এলেও জিপিএ-৫ পেত। একটু লিখলেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেত। বর্তমানে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা নিয়ে এই তামাশা ও খামখেয়ালিপনা বন্ধ করেছে। এখন না পড়ে আর কেউ পাস করবে না।”
শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের এই হুইপ বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে বিএনপি সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাঁর দাবি, গত অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একটি জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে দুলু বলেন, “বিএনপি সরকার শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে চায়। বিএনপি কোনো সন্ত্রাস ও অরাজকতায় বিশ্বাস করে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “একটি মহল পাশের দেশে বসে নানা উছিলায় আমাদের দেশকে অশান্ত করে ফায়দা লুটতে চায়। তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে। এ দেশে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্য পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
দুলু বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধসহ সকল ধর্ম ও চিন্তার মানুষ মিলে-মিশে বসবাস করে। যার যার ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করে। কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নেই। সকল ধর্মের মানুষ যেন যার যার ধর্ম-কর্ম ও ঐতিহ্য পালন করতে পারে, কোথাও কোনো সমস্যা না হয়—এ বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
মরিয়ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিস্টার শিল্পী পেরেরা আরএনডিএমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-নওগাঁ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, পটুয়াপাড়ার সেন্ট ফাব্রিস ডায়ালগ সেন্টারের পরিচালক ফাদার দীনো যাকোমিন্নেল্লী পিমে, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব।
এ ছাড়া নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম ও এমদাদুল হক আল মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
